Showing posts with label হাসির গল্প. Show all posts
Showing posts with label হাসির গল্প. Show all posts

Sunday, April 28, 2019

হাসির রাজ্যে ঘুরে আসি | Hasir Rajye Ghure Asi-Md.Islam Uddin

বাংলা হাসির জোকস-চুটকি সংগ্রহ বই পিডিএফ


ডিজিটাল বইয়ের নাম- হাসির রাজ্যে ঘুরে আসি
সম্পাদনা- মোঃ ইসলাম উদ্দিন
বইয়ের ধরণ-
হাসি মজা
ফাইলের ধরন- পিডিএফ
এই বইতে মোট পৃষ্টা আছে- ১২২
ডিজিটাল বইয়ের সাইজ- ৬ এমবি
প্রিন্ট খুব ভালো, জলছাপ মুক্ত

সম্পাদকের কথা-
রঙ্গভরা বঙ্গদেশ। হাজারো মজার মজার ঘটনা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অহরহ ঘটছে। আমরা এগুলো দেখে শুনে মজা পাই। তারপরেও আমাদের জীবনে নানা কষ্ট থাকে। আমরা হাসতে ভুলে যাই। কিন্তু হাসি মহামূল্যবান ঔষধ। হাজারো কষ্টের মাঝে এক চিলতে হাসি দেহমনে প্রশান্তি জোগায়। আমাদের সুস্থতার জন্য হাসি অত্যাবশ্যক। হাসির বহুবিধ উপকারের কথা চিন্তা করে আমি বইটি সম্পাদনা করেছি। বইটি সম্পাদনা করতে গিয়ে অনেক বই, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়েছি। এজন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সর্বোপরি পাঠকরা বইটি পড়ে কিছুটা উপকৃত হলেও নিজেকে ধন্য মনে করব। বইটির মানোন্নয়নে যে কোন পরামর্শ কৃতজ্ঞতার সাথে সাদরে গ্রহণ করা হবে।- মোঃ ইসলাম উদ্দিন
উপরোক্ত বাংলা বইটির
পিডিএফ ফাইল Download করুন অথবা Online পড়ুন
প্রিয় পাঠকগণ, আপনারা বাংলা মজার মজার বাংলা জোকস সংগ্রহ বই 'হাসির রাজ্যে ঘুরে আসি' এর পিডিএফ সংগ্রহ করিতে পারিবেন।

Saturday, April 27, 2019

Bangla Book আনন্দমেলা হাসির গল্প সংকলন Anondomela Hasir Golpo

Bangla Golpo,Bangla Story,বাংলা গল্প,বাংলা কাহিনী,দেশ-স্থান পরিচিতি,বাংলা বই,গল্পের বই,জীবনী,BD Golpo,Bangla Kahini,Country Introduction,Jiboni,Ebook,PDF,Bangla Book

ডিজিটাল বইয়ের নাম- আনন্দমেলা হাসির গল্প সংকলন
লেখক- বাংলার বিশিষ্ট লেখগণ
সম্পদনা- পৌলমী সেনগুপ্ত
বইয়ের ধরন-
  হাসির গল্প
ফাইলের ধরন- পিডিএফ
এই বইতে মোট পৃষ্টা আছে- ৪২০
ডিজিটাল বইয়ের সাইজ- ১৪এমবি
প্রিন্ট খুব ভালো, জলছাপ মুক্ত

সম্পদকের কথা-
এবারের এই আনন্দমেলা গল্পসংকলন এমন একটি বিষয় নিয়ে যা এখনকার দিনে ক্রমশই কমে আসছে। হাসি ও মজা। এই গল্পসংকলন যদি সেই অভাব পূর্ণ করতে পারে, তা হলেই আমাদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ। কেননা, হাস্যরসই নাকি মানুষের দেহের বিভিন্ন রসের ভারসাম্য বজায় রাখে। এই ধারণাটি প্রাচীন গ্রিকদের। গ্রিকরা হিউমরাল মেডিসিন' ব্যবহার করতেন, যা হিউমার' বা দেহরসের সামঞ্জস্য বজায় রেখে মানুষের স্বাস্থ্য ও সতেজতা ঠিক রাখায় সাহায্য করত। এর থেকেই ইংরেজি
humour শব্দটি এসেছে, যা বর্তমানে 'হাস্যরসবোঝাতে ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশেও অবশ্য ভরতের নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত নটি রসের একটি হল হাস্য। হাস্যরসের অধিষ্ঠাতা দেবতা হলেন গণেশ আর এই রসের রং সাদা।
অর্থা
হাসির মতো নির্মল বস্তু আর হয় না। হাসি মিলিয়ে দিতে পারে শত্রুদের, ভুলিয়ে দিতে পারে মনের কষ্ট, বন্ধুদের আরও বেশি বন্ধু করে তুলতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে এক টুকরো ছোট্ট স্বর্গ। আর আনন্দমেলার হাসি মানেই শৈশবের বাঁধনখোলা হাসি। বড় হয়ে যখন প্রাণখোলা হাসির অভাব বোধ হয়, তখন এই আনন্দমেলার হাসিমজাই পারে টেনশন থেকে বের করে আনতে। তাই এই সংকলনে শুরু থেকে এখনকার দিন পর্যন্ত আনন্দমেলায় প্রকাশিত কয়েকটি হাসির গল্প ধরে রাখার প্রয়াস। স্বীকার করে নিতেই হবে, হয়তো এগুলোর মতোই ভাল কিছু গল্প বাদ পড়ে গেল। সবকটি গল্পকে তো জায়গা দিতে পারলাম না আমরা। একটি সংকলনে তা সম্ভবও নয়। গল্পগুলোর সঙ্গে আনন্দমেলায় প্রকাশিত মূল অলংকরণই ব্যবহার করা হল, যাতে স্মৃতিও একটু হেসে নিতে পারে। বাকি শুধু পড়তে শুরু করা আর হাহা হাহা হাহা... আজকালের ভাষায় বলতে হয়.... ROFL  -পৌলমী সেনগুপ্ত

এই সংকলনে মোট পয়ষট্টিটি হাসির গল্প রয়েছে, যেগুলি বাংলার বিশিষ্ট সকল লেখকের লেখা।
উপরোক্ত বাংলা বইটির
পিডিএফ ফাইল সংগ্রহ করুনঅথবা অনলাইনে পড়ুন
প্রিয় পাঠকগণ,এই পোষ্ট হইতে আপনারা বাংলা বিশুদ্ধ হাসির গল্প সংকলন বই - 'আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন' এর পিডিএফ সংগ্রহ করিতে পারিবেন।

Bangalir Hasir Golpo পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের বাঙ্গালীর হাসির গল্প

Bangla Golpo,Bangla Story,বাংলা গল্প,বাংলা কাহিনী,দেশ-স্থান পরিচিতি,বাংলা বই,গল্পের বই,জীবনী,BD Golpo,Bangla Kahini,Country Introduction,Jiboni,Ebook,PDF,Bangla Book


হাটে একটি প্রকাণ্ড বোয়াল মাছ উঠিয়াছে। এক ফকীর ভাবিল, এই বোয়াল মাছটার পেটি দিয়া যদি চারটি ভাত খাইতে পারিতাম! সে মাছের দোকানের কাছে দাঁড়াইয়া রহিল। একজন চাষী আসিয়া মাছটি কিনিয়া লইল। মুসাফির তাহার পিছে পিছে যাইতে লাগিল। লোকটি যখন বাড়ির ধারে আসিয়াছে তখন মুসাফির তাহার নিকটে যাইয়া বলিল, ‘সাহেব! আমি মুসাফির লোক। ভিক্ষা করিয়া খাই। কোনোদিন ভালো খাওয়া হয় না। আজ হাটে যাইয়া যখন ঐ বড় মাছটি দেখিলাম, মনে বড় ইচ্ছা হইল এই মাছটির পেটি দিয়া যদি চারটি ভাত খাইতে পারিতাম! তাই আপনার পিছে পিছে আসিয়াছি। দয়া করিয়া যদি আমার মনের ইচ্ছা পূরণ করেন বড়ই সুখী হইব।
লোকটি বড়ই দয়ালু। সে খুব আদর করিয়া মুসাফিরকে আনিয়া বৈঠকখানায় বসাইল। তারপর মাছটি ভিতরে লইয়া গিয়া তাহার বউকে মুসাফিরের সমস্ত ঘটনা বলিয়া হুকুম করিল, ‘এই মাছটির পেটি বেশ পুরু করিয়া কাটিবে। পেটিখানা মুসাফিরকে দিতে হইবে।
এমন সময় লোকটির একটি গরু ছুটিয়া গেল। সে তাড়াতাড়ি গরুটির পিছে পিছে দৌড়াইল।
মাছ কুটিতে কুটিতে চাষীর বউ ভাবিল, ‘বাড়িতে ভালো কিছু খাবার পাক করিলে আমার স্বামী এমনি করিয়া মুসাফির লইয়া আসে। মুরগীর রানটা, মাছের পেটিটা সব সময়ই মুসাফিরদের দিয়া খাওয়ায়। এই বড় মাছের পেটিখানাও মুসাফিরকে খাওয়াইবে। যেমন করিয়াই হোক মুসাফিরকে আজ তাড়াইব।
এই কথা ভাবিয়া বউটি খালি পাটার উপর পুতাখানা ঘষিতে আরম্ভ করিল আর সুর করিয়া কাঁদিতে লাগিল।
অনেকক্ষণ কান্না শুনিয়া মুসাফির ভাবিল, না জানি বউটির কি হইয়াছে। সে বাড়ির ভিতর আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ‘মা জননী! তুমি কাঁদিতেছ কেন? তোমার কি হইয়াছে?’
বউটি বলিল, ‘বাবারে! সে কথা তোমাকে বলিবার নয়। আমার স্বামী মানা করিয়াছেন।
মুসাফির বলিল, ‘মা! আমি তোমার ছেলে। আমার কাছে কোনো কথা গোপন করিও না।
বউটি তখন আধেক কাঁদিয়া আধেক কাঁদিবার ভান করিয়া বলিল, ‘আমার স্বামী বাড়ির ভিতরে আসিয়া আমাকে বলিল, এই মুসাফির বড়ই লোভী। আমাদের পুতাখানা পাটায় ধার দিয়া চোখা করিয়া রাখ। মুসাফিরের গলার ভিতর দিয়া ঢুকাইয়া দিব। যাহাতে সে আর কাহারও মাছ দেখিয়া লোভ করিতে না পারে। তাই আমি কাঁদিতেছি। হায়! হায়! আমার স্বামী এই মোটা পুতা তোমার গলার ভিতরে ঢুকাইলে নিশ্চয় তুমি মরিয়া যাইবে, তাই আমি কাঁদিতেছি। কিন্তু স্বামীর হুকুম তো আমাকে মানিতেই হইবে।
শুনিয়া মুসাফিরের তো চক্ষুস্থির। সে বলিল, ‘মা জননী! তুমি একটু আস্তে আস্তে পুতা ঘষ। আমি এখনই চলিয়া যাইতেছি।এই বলিয়া মুসাফির তাড়াতাড়ি লাঠি-বোঁচকা লইয়া দে চম্পট। এমন সময় বাড়ির কর্তা ফিরিয়া আসিয়া দেখে কাছারি ঘরে মুসাফির নাই। বউকে জিজ্ঞাসা করিল, ‘মুসাফির চলিয়া গেল কেন?’
বউ নথ নাড়িতে নাড়িতে বলিল, ‘তুমি বাড়ি হইতে চলিয়া গেলে মুসাফির বলে কি, ‘তোমাদের পুতাটা আমাকে দাও।দেখ তো, আমাদের একটা মাত্র পুতা। তা মুসাফিরকে দেই কেমন করিয়া? পুতা দেই নাই বলিয়া মুসাফির রাগিয়া চলিয়া গেল।স্বামী বলিল, ‘সামান্য পুতাটা দিলেই পারিতে। আমি না হয় বাজার হইতে আর একটি পুতা কিনিয়া আনিতাম। শিগগীর পুতাটা আমাকে দাও, আর মুসাফির কোন্ দিকে গিয়াছে বল!
বউ পুতাটি স্বামীর হাতে দিয়া বলিল, ‘মুসাফির এই দিক দিয়া গিয়াছে।পুতাটি হাতে লইয়া সে সেই দিকে দৌড়াইয়া চলিল। খানিক যাইয়া দেখিল, মুসাফির অনেক দূর হন্ হন্ করিয়া চলিয়াছে। সে ডাকিয়া বলিতে লাগিল, ‘ও মুসাফির, দাঁড়াওদাঁড়াওপুতা লইয়া যাও।শুনিয়া মুসাফির উঠিয়া পড়িয়া দৌড়। চাষী যতই জোরে জোরে বলে, ‘ও মুসাফির! পুতা লইয়া যাও!পুতা লইয়া যাও! মুসাফির আরও জোরে জোরে দৌড়ায়। সে ভাবে সত্যই চাষী তাহার গলায় পুতা ঢুকাইতে আসিতেছে। বোঁচকা-বুঁচকি বগলে ফেলিয়া সে মরিয়া হইয়া দৌড়ায়।
পল্লীকবি জসীমদ্দিনের লেখা বাঙ্গালীর হাসির গল্প আমাদের সাহিত্যের অমূল্য সম্মদ। কিন্তু সেই অমূল্য খাজানা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায়না। বাংলা একাডেমি কেন যে এগুলো পুনঃমুদ্রন করছেন না তা বোধগম্য নয়। সেই হাসির সিন্দুক থেকে একটি গল্প আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

Friday, April 26, 2019

Bangla Golpo গোপাল ভাড়ের কৌতুক Gopal Varher Koutuk

Bangla Golpo,Bangla Story,বাংলা গল্প,বাংলা কাহিনী,দেশ-স্থান পরিচিতি,বাংলা বই,গল্পের বই,জীবনী,BD Golpo,Bangla Kahini,Country Introduction,Jiboni,Ebook,PDF,Bangla Book


একজন বৈরাগী গোপালকে চিনত না। সে গোপালের সামনে এসে বলল, “ঈশ্বরের সেবার জন্য আপনি কিছু চাঁদা দেবেন?”
গোপাল কিছু না বলে বৈরাগীকে একটা টাকা দিল।
টাকাটা পেয়ে বৈরাগী খুশি হয়ে পথ হাঁটতে লাগল। কিছুটা যেতেই গোপাল তাকে ডাকল, “ও বৈরাগী, একবারটি আমার কাছে এসো।
বৈরাগী খুশিমনে তার কাছে আসলে গোপাল বলল, “তোমার বয়স কত?”
আঠারো আজ্ঞে।
আমার বয়স পঞ্চান্ন।
তাতে কি হল?”
এইমাত্র ঈশ্বরের সেবার জন্য যে একটা টাকা নিয়েছ সেটা ফেরত দাও, কারণ তোমার আগেই আমি স্বর্গে যাব এবং ঈশ্বরের সেবার সুবর্ণ সুযোগ পাব।

রাজা বললেন, শীতের রাতে কেউ কি সারা রাত এই পুকুরে গলাপানিতে ডুবে থাকতে পারবে? যদি কেউ পারে, আমি তাকে অনেক টাকাপয়সা, ধনরত্ন পুরস্কার দেব।
এক ছিল গরিব দুঃখী মানুষ। সে বলল, আমি পারব।
সে মাঘ মাসের তীব্র শীতে সারা রাত পুকুরের পানিতে গলা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ভোরের বেলা সে উঠল পানি থেকে।
রাজার কাছে গিয়ে সে বলল, আমি সারা রাত পুকুরের পানিতে ছিলাম। আপনার সান্ত্রী-সেপাই সাক্ষী। এবার আমার পুরস্কার দিন।
রাজা বললেন, সেকি, তুমি কেমন করে এটা পারলে!
গরিব লোকটা বলল, আমি পানিতে সারা রাত দাঁড়িয়ে রইলাম। দূরে, অনেক দূরে এক গৃহস্থবাড়িতে আলো জ্বলছে। আমি সেই দিকে তাকিয়ে রইলাম। সারা রাত কেটে গেল।
মন্ত্রী বলল, পাওয়া গেছে। এই যে দূরের প্রদীপের আলোর দিকে ও তাকিয়ে ছিল, ওই প্রদীপ থেকে তাপ এসে তার গায়ে লেগেছে। তাই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে এই শীতেও ওই পুকুরে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে রেখে দাঁড়িয়ে থাকা।
রাজা বললেন, তাই তো! তাহলে তো তুমি আর পুরস্কার পাও না। যাও। বিদায় হও।
গরিব লোকটা কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নিল। সে গেল গোপাল ভাঁড়ের কাছে। অনুযোগ জানাল তাঁর কাছে। সব শুনলেন গোপাল ভাঁড়।
তারপর গোপাল ভাঁড় বললেন, ঠিক আছে, তুমি ন্যায়বিচার পাবে।
গোপাল ভাঁড় দাওয়াত করলেন রাজাকে। দুপুরে খাওয়াবেন। রাজা এলেন গোপাল ভাঁড়ের বাড়ি। গোপাল ভাঁড় বললেন, আসুন আসুন। আর সামান্যই আছে রান্নার বাকি। কী রাঁধছি দেখবেন, চলেন।
গোপাল ভাঁড় রাজাকে নিয়ে গেলেন বাড়ির পেছনে। সেখানে একটা তালগাছের ওপর একটা হাঁড়ি বাঁধা আর নিচে একটা কুপিবাতি জ্বালানো।
গোপাল ভাঁড় বললেন, ওই যে হাঁড়ি, ওটাতে পানি, চাল, ডাল, নুন সব দেওয়া আছে। এই তো খিচুড়ি হয়ে এল বলে। শিগগিরই আপনাদের গরম গরম খিচুড়ি খাওয়াচ্ছি।
রাজা বললেন, তোমার বাড়িতে দাওয়াত খাব বলে সকাল থেকে তেমন কিছু খাইনি। খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। এখন এই রসিকতা ভালো লাগে!
রসিকতা কেন, রান্না হয়ে এল বলে।
রাজা বললেন, তোমার ওই খিচুড়ি জীবনেও হবে না, আমার আর খাওয়াও হবে না। চলো মন্ত্রী, ফিরে যাই।
গোপাল বললেন, মহারাজ, কেন খিচুড়ি হবে না। দূরে গৃহস্থবাড়িতে জ্বালানো প্রদীপের আলো যদি পুকুরের পানিতে ডুবে থাকা গরিব প্রজার গায়ে তাপ দিতে পারে, এই প্রদীপ তো হাঁড়ির অনেক কাছে। নিশ্চয়ই খিচুড়ি হবে।
রাজা তার ভুল বুঝতে পারলেন। বললেন, আচ্ছা পাঠিয়ে দিয়ো তোমার ওই গরিব প্রজাকে। ওর প্রতি আসলেই অন্যায় করা হয়েছে। ওকে ডাবল পুরস্কার দেব।
সে তো আপনি দেবেনই। আমি জানতাম। আসুন, ঘরে আসুন। দুপুরের খাওয়া প্রস্তুত।
তারপর রাজা সত্যি সত্যি গরিব লোকটাকে অনেক পুরস্কার দিয়েছিলেন।

আজকের দিনে গোপাল ভাঁড় শারীরিকভাবে নেই। কিন্তু তার রসিকতাগুলো রয়েই গেছে।
আগুন লাগানো বিষয়ে সম্প্রতি তেমনই একটা রসিকতা করা হয়েছে। এই রসিকতা শুনে দেশের মানুষ এমন অট্টহাসি দিয়েছে যে সবার মন ভালো হয়ে গেছে।
সংবাদপত্রে কোনো খবর প্রকাশিত হলে যে-কেউই রুষ্ট হতে পারেন। সব খবর সবার পক্ষে যাবে না। যে-কেউ যেকোনো খবরকে প্র্রতিবাদযোগ্য বলেও মনে করতে পারেন। খবর সত্য, নাকি মিথ্যা, এ সম্পর্কে মুখ না খুলে খবরের কাগজের সম্পাদক বা মালিকদের বিরুদ্ধে উল্টো অন্য অপ্রাসঙ্গিক অভিযোগ তোলা যে খুবই অভিনব একটা ঘটনা, সেটা সবাই স্বীকার করবেন। কিন্তু অভিযোগটা কী হবে, সেটা নিশ্চয়ই একটু ভেবে ঠিক করা দরকার ছিল।
এখন দেশের মানুষ বলাবলি করছে, ওই আলোচিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বলেছিল, যাদের অফিস, তারাই তদন্তকাজে সহযোগিতা করেনি বলে ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন করা যায়নি। কেঁচো খুঁড়তে কেউটে সাপ না বেরিয়ে যায়! অন্যের জন্য কুয়ো খুঁড়ে না সেই কুয়োতে উল্টো পড়ে যেতে হয়।
ওই ঘটনায় মানুষের মৃত্যুও হয়েছিল। যার বাড়ি, তার সহযোগিতার অভাবে তদন্ত করা যায়নি বলে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের জীবন তো ফিরিয়ে দিতে পারবে না কেউ। এখন দেশের মানুষ চায়, নিরপেক্ষ কিন্তু দক্ষ আইনানুগ কর্তৃপক্ষ ওই আলোচিত অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে। উদ্ঘাটন করুক আসলে কারা ঘটিয়েছিল ওই অগ্নিকাণ্ড। কেন ঘটিয়েছিল।
গোপাল ভাঁড়ের কাণ্ডকারখানার উদ্দেশ্য থাকত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তার মাধ্যমে লোকে হাস্যরসও পেত, কিন্তু সেটা বাহ্য। এই আলোচিত অগ্নিসংযোগের অভিযোগ যথেষ্ট হাস্যরস সৃষ্টি করেছে, এবার দরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা


গোপাল একবার গ্রামের মোড়ল হয়েছিল। তো একদিন ভোরবেলায় এক লোক এসে ডাকতে লাগল, ‘গোপাল? গোপাল?’ গোপাল ভাঁড় কোনো উত্তর না দিয়ে শুয়েই রইল। এবার লোকটা চি
কার করে ডাকতে লাগল, ‘মোড়ল সাহেব, মোড়ল সাহেব।এবারও গোপাল কোনো কথা না বলে মটকা মেরে শুয়ে রইল। গোপালের বউ ছুটে এসে বলল, ‘কী ব্যাপার, লোকটা মোড়ল সাহেব মোড়ল সাহেব বলে চেঁচিয়ে পড়া মাত করছে, তুমি কিছুই বলছ না!গোপাল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘আহা, ডাকুক না কিছুক্ষণ, পাড়ার লোকজন জানুক আমি মোড়ল হয়েছি।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সব সভাসদদের সামনে গোপালকে জব্দ করার উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘বুঝলে গোপাল, আমার সাথে তোমার চেহারার কিন্তু দারুণ মিল! তা বাবার শাসনামলে তোমার মা কি এদিকে আসতেন-টাসতেন নাকি?’

গদগদ হয়ে গোপাল বলে, ‘আজ্ঞে না রাজামশাই! তবে মা না এলেও বাবা কিন্তু প্রায়শই আসতেন!

গোপাল একবার তার দুই বেয়াই-এর সাথে এক জায়গায় যাচ্ছিল। পথের ধারে দক্ষিণমুখো হয়ে সে প্রস্রাব করতে বসলে এক বেয়াই বলল, “আরে করেন কি, আপনি জানেন না, দিনের বেলা দক্ষিণমুখো হয়ে প্রস্রাব করতে নেই, শাস্ত্রে নিষেধ আছে যে!
অপর বেয়াই বলল, “শুনেছি উত্তরমুখো হয়েও নাকি ওই কাজটি করতে নেই।

গোপাল বলল, “ওসব পন্ডিতলোকদের বচন, আমি গাঁইয়া মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, ওসব বাছবিছার আমি করি না, সব মুখেই প্রস্রাব করি। বড় বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখে করি আর ছোট বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখেও করি।
গোপালের মুখের কথা শুনে বেয়াইদের মুখে আর কথা নেই।

বেড়াতে বেরিয়ে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একবার গোপালের হাত চেপে ধরে আস্তে আস্তে মোচড়াতে লাগলেন।
গোপাল: আমার হাত নির্দোষ, ওকে রেহাই দিন।
রাজা: জোর করে ছাড়িয়ে নাও।
গোপাল: সেটা বেয়াদবি হবে।
রাজা: উহু, তাহলে হাত ছাড়ব না।
গোপাল তখন যে রোগের যে দাওয়াই বলে রাম নাম জপতে থাকলেন।
রাজা: এতে কি আর কাজ হবে? দাওয়াই কোথায়?
গোপাল: রাম নাম জপাই তো মোক্ষম দাওয়াই।
রাজা: মানে?
গোপাল: পিতামহ, প্রপিতামহের আমল থেকে শুনে আসছি, রাম নাম জপলে ভূত ছাড়ে।
রাজা গোপালের হাত ছেড়ে দিলেন সঙ্গে সঙ্গে।

গোপাল যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি। মাথার ওপর গনগনে সূর্য। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গোপাল এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসল। বেশি গরম লাগায় ফতুয়াটা খুলে পাশে রেখে একটু আয়েশ করে বসল। বসে বিশ্রাম নিতে নিতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল, নিজেই জানে না।

ঘুম যখন ভাঙল গোপাল দেখে, তার ফতুয়াটা চুরি হয়ে গেছে। হায় হায়! এখন কী হবে! খালি গায়ে তো আর শ্বশুরবাড়ি ওঠা যায় না। কী আর করা। সে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বলতে লাগল, ‘হে ভগবান, রাস্তায় অন্তত ১০টি মুদ্রা যেন কুড়িয়ে পাই, তাহলে পাঁচ মুদ্রায় আমার জন্য একটা ভালো ফতুয়া কিনতে পারি। আর তোমার জন্য পাঁচটি মুদ্রা মন্দিরে দান করতে পারি
···আর কী আশ্চর্য! ভাবতে ভাবতেই দেখে, রাস্তার ধারে কয়েকটি মুদ্রা পড়ে আছে। খুশি হয়ে উঠল গোপাল, গুনে দেখে পাঁচটি মুদ্রা! গোপাল স্বগত বলে উঠল, ‘হে ভগবান, আমাকে তোমার বিশ্বাস হলো না, নিজের ভাগটা আগেই রেখে দিলে?

Saturday, April 20, 2019

Bangla Golpo: গোপাল ভাড়ের মজার গল্প

Bangla Golpo

বেড়াতে বেরিয়ে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একবার গোপালের হাত চেপে ধরে আস্তে আস্তে মোচড়াতে লাগলেন।
গোপাল: আমার হাত নির্দোষ, ওকে রেহাই দিন।
রাজা: জোর করে ছাড়িয়ে নাও।
গোপাল: সেটা বেয়াদবি হবে।
রাজা: উহু, তাহলে হাত ছাড়ব না।
গোপাল তখন যে রোগের যে দাওয়াই বলে রাম নাম জপতে থাকলেন।
রাজা: এতে কি আর কাজ হবে? দাওয়াই কোথায়?
গোপাল: রাম নাম জপাই তো মোক্ষম দাওয়াই।
রাজা: মানে?
গোপাল: পিতামহ, প্রপিতামহের আমল থেকে শুনে আসছি, রাম নাম জপলে ভূত ছাড়ে।
রাজা গোপালের হাত ছেড়ে দিলেন সঙ্গে সঙ্গে।

গোপাল যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি। মাথার ওপর গনগনে সূর্য। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গোপাল এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসল। বেশি গরম লাগায় ফতুয়াটা খুলে পাশে রেখে একটু আয়েশ করে বসল। বসে বিশ্রাম নিতে নিতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল, নিজেই জানে না।

ঘুম যখন ভাঙল গোপাল দেখে, তার ফতুয়াটা চুরি হয়ে গেছে। হায় হায়! এখন কী হবে! খালি গায়ে তো আর শ্বশুরবাড়ি ওঠা যায় না। কী আর করা। সে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বলতে লাগল, ‘হে ভগবান, রাস্তায় অন্তত ১০টি মুদ্রা যেন কুড়িয়ে পাই, তাহলে পাঁচ মুদ্রায় আমার জন্য একটা ভালো ফতুয়া কিনতে পারি। আর তোমার জন্য পাঁচটি মুদ্রা মন্দিরে দান করতে পারি
···আর কী আশ্চর্য! ভাবতে ভাবতেই দেখে, রাস্তার ধারে কয়েকটি মুদ্রা পড়ে আছে। খুশি হয়ে উঠল গোপাল, গুনে দেখে পাঁচটি মুদ্রা! গোপাল স্বগত বলে উঠল, ‘হে ভগবান, আমাকে তোমার বিশ্বাস হলো না, নিজের ভাগটা আগেই রেখে দিলে?

গোপাল একবার তার দুই বেয়াই-এর সাথে এক জায়গায় যাচ্ছিল। পথের ধারে দক্ষিণমুখো হয়ে সে প্রস্রাব করতে বসলে এক বেয়াই বলল, “আরে করেন কি, আপনি জানেন না, দিনের বেলা দক্ষিণমুখো হয়ে প্রস্রাব করতে নেই, শাস্ত্রে নিষেধ আছে যে!
অপর বেয়াই বলল, “শুনেছি উত্তরমুখো হয়েও নাকি ওই কাজটি করতে নেই।

গোপাল বলল, “ওসব পন্ডিতলোকদের বচন, আমি গাঁইয়া মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, ওসব বাছবিছার আমি করি না, সব মুখেই প্রস্রাব করি। বড় বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখে করি আর ছোট বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখেও করি।
গোপালের মুখের কথা শুনে বেয়াইদের মুখে আর কথা নেই।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সব সভাসদদের সামনে গোপালকে জব্দ করার উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘বুঝলে গোপাল, আমার সাথে তোমার চেহারার কিন্তু দারুণ মিল! তা বাবার শাসনামলে তোমার মা কি এদিকে আসতেন-টাসতেন নাকি?’

গদগদ হয়ে গোপাল বলে, ‘আজ্ঞে না রাজামশাই! তবে মা না এলেও বাবা কিন্তু প্রায়শই আসতেন!

গোপাল একবার গ্রামের মোড়ল হয়েছিল। তো একদিন ভোরবেলায় এক লোক এসে ডাকতে লাগল, ‘গোপাল? গোপাল?’ গোপাল ভাঁড় কোনো উত্তর না দিয়ে শুয়েই রইল। এবার লোকটা চি
কার করে ডাকতে লাগল, ‘মোড়ল সাহেব, মোড়ল সাহেব।এবারও গোপাল কোনো কথা না বলে মটকা মেরে শুয়ে রইল। গোপালের বউ ছুটে এসে বলল, ‘কী ব্যাপার, লোকটা মোড়ল সাহেব মোড়ল সাহেব বলে চেঁচিয়ে পড়া মাত করছে, তুমি কিছুই বলছ না!গোপাল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘আহা, ডাকুক না কিছুক্ষণ, পাড়ার লোকজন জানুক আমি মোড়ল হয়েছি।

একজন বৈরাগী গোপালকে চিনত না। সে গোপালের সামনে এসে বলল, “ঈশ্বরের সেবার জন্য আপনি কিছু চাঁদা দেবেন?”
গোপাল কিছু না বলে বৈরাগীকে একটা টাকা দিল।
টাকাটা পেয়ে বৈরাগী খুশি হয়ে পথ হাঁটতে লাগল। কিছুটা যেতেই গোপাল তাকে ডাকল, “ও বৈরাগী, একবারটি আমার কাছে এসো।
বৈরাগী খুশিমনে তার কাছে আসলে গোপাল বলল, “তোমার বয়স কত?”
আঠারো আজ্ঞে।
আমার বয়স পঞ্চান্ন।
তাতে কি হল?”
এইমাত্র ঈশ্বরের সেবার জন্য যে একটা টাকা নিয়েছ সেটা ফেরত দাও, কারণ তোমার আগেই আমি স্বর্গে যাব এবং ঈশ্বরের সেবার সুবর্ণ সুযোগ পাব।

Bangla Golpo: শ্বশুর-জামাই Father-Son-in-law হাসির গল্প

Bangla Golpo

অনেক দিন জামাই শ্বশুরবাড়ি আসে না।সেই জন্য শ্বশুরের বড় নিন্দা।গাঁয়ের লোকেরা বলে,তোমাদের বাড়ি জামাই আসে না কেন?নিশ্চয়ই ইহার মধ্যে একটা গোপন কারণ আছে।
কারণ যাহা আছে,শ্বশুর তো তাহা ভালোই জানেন।শ্বশুরবাড়িতে জামাইর শালা নাই,শালি নাই।ইয়ারকি-ঠাট্টা করিবার কেহ নাই।সেই জন্যই তো জামাই শ্বশুরবাড়িতে আসে না।
অনেক ভাবিয়া-চিন্তিয়া শ্বশুর ঠিক করিলেন,এবার যেমন করিয়াই হোক,জামাইকে আনিতে হইবে।না হয় শ্বশুর হইয়াই জামাইর সঙ্গে একটু ঠাট্টা-ইয়ারকি করিবেন।বাড়িতে অন্য লোক নাই।কেহ তো দেখিতে আসিবে না।
হাটের মধ্যে জামাইর সঙ্গে শ্বশুরের দেখা হইল।শ্বশুর জামাইকে বলিলেন,‘তা বাবাজি,আমাদের ওমুখো যে হন-ই না,আজ চলুন আমাদের ওখানে।জামাই উত্তর করিল,‘আপনাদের ওখানে কি আর যাইব!শালা নাই,শালী নাই,কাহার সঙ্গে কথাবার্তা কহিব?’
শ্বশুর মিথ্যা করিয়া বলিলেন,‘তা এবার ঢাকা হইতে আমার এক ভাইজি আসিয়াছে।কলেজে পড়ে।সম্পর্কে তোমার শালী,তাহার সঙ্গে অনেক হাসি-তামাশা করিতে পারিবে।
জামাই রাজি হইয়া শ্বশুরবাড়িতে আসিল।আসিয়া দেখে,ঢাকা হইতে কেহই আসে নাই।শ্বশুর তাহাকে ফাঁকি দিয়াছেন।জামাই ভাবিল,আজকের দিনটি মাটি হইল।
শ্বশুর যাহা ভাবিয়াছিলেন,তাহা তো তাহার মনেই আছে!
আহারের সময় হইল।শ্বশুরবাড়ি আসিয়া জামাইরা শালা-শালী লইয়া এক থালায় ভাত খায়।শ্বশুর তাঁহার স্ত্রীকে বলিলেন,‘দেখো,বড় থালাখানায় আজ আমাদের ভাত দাও।আমি আর জামাই এক থালায় ভাত খাইব।
শ্বশুর আর জামাই একসঙ্গে এক থালায় ভাত খাইতে বসিলেন।নানা রকম তরকারি দিয়া খাওয়া চলিতে লাগিল।শ্বশুর ভাবিলেন,চালাকি করিয়া জামাইকে ক্ষীর খাইতে দিব না।
তিনি জামাইকে বলিলেন,‘জামাই খাওয়া তো হইয়াছে,এবার হাত ধোও।
জামাই দেখিল,শ্বশুর তাহাকে ক্ষীর না খাওয়াইয়া ঠকাইবার মতলব করিয়াছেন।জামাই তখন এক গল্প ফাঁদিয়া বলিল,‘হাত আর ধুইব কি? আপনাদের বাড়িতে আসিবার সময় সামনে পড়িল এক প্রকাণ্ড সাপ।কহিলে বিশ্বাস করিবেন না,আমাকে না দেখিয়া ওই যে শিকার ওপরে ক্ষীরের হাঁড়িটা ঝুলিতেছে না? ওই অত উঁচু একটা ফণা মেলিয়া ধরিল সাপটা আমার দিকে।
শ্বশুর দেখিলেন,ধরা পড়িয়াছেন।জামাই ক্ষীরের কথা টের পাইয়াছে।তিনি তাড়াতাড়ি বলিয়া উঠিলেন,‘তাই তো!ক্ষীরের কথা তো একেবারে ভুল হইয়া গিয়াছে।আন আন,ক্ষীর আন।
শাশুড়ি একটু মুচকি হাসিয়া তাড়াতাড়ি ক্ষীর আনিয়া দিলেন।ক্ষীরের সঙ্গে মাখিয়া খাইবার জন্য কিঞ্চিত্ ভাতও দিলেন।
জামাই ভাবিল,‘শ্বশুর আমাকে ক্ষীর খাওয়া হইতে বঞ্চিত করিতেছিলেন,এবার আমি তাঁহাকে ক্ষীরই খাইতে দিব না।জামাই শ্বশুরের সঙ্গে গল্প আরম্ভ করিল,‘এখনকার কলিকালের কথা আর কি বলিব?বউরা স্বামীকে মানিতে চাহে না।এই আপনাদের মেয়ে,যাহাকে আমি বিবাহ করিয়াছি;আমি যদি তাহাকে বলি এদিক থাকো,সে চলিয়া যায় ওদিকে।বলিবার সঙ্গে সঙ্গেই তাহা দেখাইয়া দিবার অজুহাতে জামাই পাতের ক্ষীরটুকু নিজের দিকে টানিয়া লইয়া ভাতগুলি শ্বশুরের দিকে ঠেলিয়া দিল।
শ্বশুর দেখিলেন,‘ঠকাইবার মতলবে জামাই আমাকে ক্ষীর খাইতে দিবে না।আচ্ছা দেখাইতেছি!
উপদেশের ছলে শ্বশুর জামাইকে বলিলেন,‘তা বাবাজি!তোমরা ছেলেছোকরা মানুষ।মিলমিশ হইয়া থাকো।
বলিতে বলিতে তাহা দেখাইয়া দিবার অজুহাতে ক্ষীর ও ভাত একসঙ্গে মাখিয়া ফেলিলেন

Saturday, April 6, 2019

বাংলা হাসির গল্প: মেয়ে মানুষের আটকলা

বাংলা গল্প

রহিম শেখ বড়ই রাগী মানুষ।কোন কাজে একটু এদিক-ওদিক হইলেই সে তার বউকে ধরিয়া বেধম মারে।রোজ তাদের বাড়িতে মারামারি লাগিয়াই আছে।সেদিনের একটি ঘটনা বলিতেছি ।
বউ সকালে উঠিয়া ঘর-দোর ঝাঁট দিতেছে,রহিম ঘুম হইতে উঠিয়া বলিলআমার হুঁক্কায় পানি ভরিয়াছ?”বউ বলিল,“ তুমি তো ঘুমাইতেছিলে তাই হুঁক্কায় পানি ভরি নাই।এই এখনই ভরিয়া দিতেছিরহিম চোখ গরম করিয়া বলিল,“এতো বেলা হইয়াছে,তবু হুক্কায় পানি ভর নাই!দাঁড়াও দেখাইতেছি তোমায় মজাটাএই বলিয়া সে যখন বউকে মারিতে উঠিয়াছে,বউ বলিল,“যখন তখন তুমি আমাকে মার-ধর কর,আমি কিছুই বলি না।জান আমরা মেয়ে জাত?আটকলা হেকমত আমাদের মনে মনেফের যদি মার তবে  আটকলা হেকমত দেখাইয়া দিব
Bangla Golpo
এই কথা শুনিয়া রহিম শেখের রাগ আরো বাড়িয়া গেল।সেএকটা লাঠি লইয়া বউকে মারিতে মারিতে বলিল,“ওরে শয়তানী,দেখি তোর আটকলা কেমন?তুই কি ভবিয়াছিস আমি তোর আটকলাকে ডরাই?”
বহুক্ষণ বউকে মারিয়া রহিম মাঠের কাজ করিতে বাহির হইয়া গেল।অনেক্ষণ কাঁদিয়া কাঁদিয়া বউ মনে মনে একটি মতলব আটিল।বউ-সোয়ামীর ঝগড়া সহজেই মিটিয়া যায়দুপুরে রহিম বাড়ি আসিলে বউ রহিমের কাছে জানিয়া লইল,কাল সে কোন ক্ষেতে হাল বাহিবে।বিকাল হইলে বউ বাড়ির কাছের এক জেলেকে ডাকিয়া আনিয়া বলির?“জেলে ভাই!কাল ভোর হওয়ার কিছু আগে তুমি আমাকে একটি তাজা শোলমাছ আনিয়া দিবে।আমি তোমাকে এক টাকা আগাম দিলাম।আরও যদি লাগে তাও দিব।শেষ রাতে আমি জাগিয়া খিরকির দরজার সামনে দাড়াইয়া থাকিব।তখন তুমি গোপনে শোল মাছ আমাকে দিয়া যাইবে
পাড়াগাঁয়ে একটি শোল মাছের দাম বড় জোর আট আনা।এক টাকা পাইয়া জেলে মনের খুশীতে বাড়ি ফিরিল।সে এ-পুকুরে জাল ফেলে ওপুকুরে জাল ফেলেকত টেংরা,পুঁটি,পাবদা মাছ আটকায়;কিন্তু শোলমাছ আর আটকায় না।রাত যখন শেষ হইয়া আসিয়াছে তখন সত্যি সত্যি একটি শোলমাছ তার জালে ধরা পড়িলতাড়াতারি মনে খুশীতে সে মাছটি লইয়া রহিম শেখের বাড়ির খিড়কি-দরজায় আসিলবউত আগেই সেখানে আসিয়া দাঁড়াইয়া আছে।মাছটি লইয়া বউ তারতাড়ি যে খেতে রহিম আজ লাঙল বাহিবে সেখানে পুতিয়া রাখিয়া আসিল।
সকাল হইলে রহিম খেতে আসিয়া লাঙল জুড়িল।সে এদিক হইতে লাঙল ফড়িয়া দিয়া ও দিকে যায়,ও দিক হইতে এদিকে আসে।হঠা তাহার লাঙলেরতলা হইতেএকটি শোল মাছ লাফইয়া উঠিল।রহিম আশ্চর্য হইয়া মাছটি ধরিয়া লইয়া বাড়ি ফিরিয়া আসিল।তারপর বউকে বলির,“লাঙলের তলায় এই তাহা শোলমাছটি পাইলাম।খোদার কি কুদরত!এই মাছের কিছুট ভাজা করিবে,আর কিছুটা তরকারি করিবে।অনেকদিন মাছ ভাত খাই না।আজ পেট ভরিয়া মাছ ভাত খাইবএ বলিয়া রহিম ক্ষেতের কাজে চালিয়া গেল।দুপুর হইতে না হইতেই বাড়ি ফিরিয়া আসিয়া সে বউ এর কাছে খাইতে চাহিল।বউ এক থাল ভাত আর কয়েকটা মরিচ পোড়া আনিয়া তাহার সামনে ধরিল ।
একে তো ক্ষুধায় তাহার শরীরে আগুন উঠিয়াছে,তাহার উপর এই মরিচ পোড়া আর ভাত দেখিয়া রহিমের মাথায় খুন চাপিয়া গেল।সে চোখ গরম করিয়া বলির,“সেই শোল মাছ কি করিয়াছিস শীগ্‌গীর বল?”বউ যেন আকাশ হইতে পড়িল,এমনি ভাব দেখাইয়া বলিল,“কই,মাছ কোথায়?তুমি কি আজ বাজার হইতে মাছ কিনিয়াছ?
রহিম বলিল,“কেন,আমি যে আজ ইটা ক্ষেত হইতে শোলমাছটা ধরিয়া আনিলামবউ উত্তর করিলমবল কি?ইটা ক্ষেতে কেহ কখনো শোল মাছ ধরিতে পারে?কখন তুমি আমাকে শোল মাছ আনিয়া দিলে?তোমার কি মাথা খারাপ হইয়াছে?”
তখন রহিমের মাথা দাউ দাউ করিতেছে।সে চিকার করিয়া উঠিল,“ওরে শয়তানী!এমন মাছটা তুই নিজে রাধিয়া খাইয়া আমার জন্য রাখিয়াছিস মরিচ-পোড়া আর ভাত!দেখাই তোর মজাটাএই বলিয়া রহিম বউকে বেদম প্রহার করিতে লাগিল।বউ চিকার করিয়া সমস্ত পাড়ার লোক  জড় করিয়া ফেলিল,“ওরে তোমরা দেখরে,আমার সোয়ামী পাগল ইয়াছে,আমাকে মারিয়া ফেলিল
বউ এর চিকার শুনিয়া এপাড়া ওপাড়া  হইতে বহুলোক আসিয়া জড় হইল।তাহার জিজ্ঞাসা করিল,“তোমরা এতো চেঁচামেচি করিতেছ কেন?”তোমাদের কি হইছে?রহিম বলিল,“দেখ ভাই সকলরা,আজ আমি একটা তাজা শোলমাছ ধরিয়া আনিয়া বউকে দিলাম পাক করিতে।এই রাক্ষসী সেটা নিজেই খাইয়া ফেলিয়াছে।আর আমার থালায় রাখিয়াছে এই মরিচ-পোড়া আর ভাত।আপনারাই বিচার করেন এখন বউ এর কি শাস্তি হইতে পারে?”
বউ তখন হাত জোর করিয়া বলিল,“দোহাই আপনাদের সকলের।আপনারা ভাল মত পরীক্ষা করিয়া দেখেন আমার সোয়ামীর মাথা খারাপ হইয়া সে যাতা বলিতেছে কিনা?ওর  কাছে আপনারা জিজ্ঞাসা করেন,ও কোথা হইতে মাছ আনিল,আর কখন আনিল?”
রহিম বলিল,“আজ সকালে ঐ ইটাক্ষেতে যখন লাঙল দিতেছিলাম তখন একটি এত বড় শোলমাছ আমার লাঙলের তলে লাফাইয়া উঠিয়াছিল।সেইটি ধরিয়া আনিয়া বউকে পাক করিতে দিয়াছিলাম
বউ পাড়ার সবাইকে বলিল“আপনারা সবাই বলুন,শুকনা মাঠে তাজা শোলমাছ কেমন করিয়া আসিবে?আমার সোয়ামী পাগল না হইলে এমন কথা বলিতে পারে
গায়ের লোকেরা সকলেই বলাবলি করিল,“রহিম শেখের ইটাক্ষেতের ধারে পারে কোন ইদারা-পুকুর নাই।সেখানে শোলমাছ আসিবে কোথা হইতে?রহিম পাগল হইয়াছেতথন তাহারা পরামিশ করিয়া রহিমকে দড়ি দিয়া বাধিতে গেলসে যখন বাধা দিতেছিল,সকলে তখন তাহাকে কিল-থাপর মারিতেছিল।একজন বলিল,“পানিতে চুবাইলে পাগলের পাগলামীসারে।চল ভাই,একে পুকুরে লইয়া গিয়া কিছুটা চুবাইয়া আনিযেই কথা সেই কাজসকলে ধরিয়া রহিমকে পুকুরে লইয়া গিয়া চুবাইতে লাগিল।রহিম বাধা দিল।কার বাধা কে মানে।সে যতই বাধা দেয়,তাহারা তাকে ততই চুবায়।চুবাইতে চুবাইতে আধরা করিয়া রহিমকে তাহার ঘরে লইয়া আসিল।রহিম রাগে শোষাইতে লাগিল।তখন একজন বলিল,“উহাকে আজই পাগলা গারদে লইয়া যা।নতুবা রাগের মাথায় কাকে খুন করিয়া ফেলে বলা যায় না
রহিমের বউ বলিল,“আপনারা আজকের মতো ওকে ঘরের খাটের সাথে বাধিয়া রাখিয়া যান।কাল যদি না সারে পাগলা গারদে লইয়া যাইবেন
গায়ের লোক তাহাই করিল।রহিমকে ঘরের খাটের সাথে কষিয়া বাধিয়া যে যার বাড়ি চলে গেল ।
সবলোক চালিয়া গেলে বউ রহিমের হাতের পায়ের বাধন খুলিয়া দিয়া হাসিতে হাসিতে মাছ ভাতের থালা আনিয়া তাহার সামনে ধরিল।গরম গরম পাক করা মাছের তরকারির গন্ধ সারাদিন না খাওয়া রহিমের নাকে আসিয়া লাগিল।সে মাথা নিচু করিয়া ভাত খাইতে শুরু করিল।পাখার বাতাস করিতে করিতে বউ বলিল,“দেখ,আমরা মেয়ে জাত আটকলা বিদ্য জানি;তারই এক কলা আজ তোমাকে দেখাইলাম।তাতেই এক কান্ড আর বাকি সাত কলা দেখাইলে কি যে হইত বুঝিতে পার
রহিম বলিল,“দোহাই তোমার আর সাতকলার ভয় দেখাই না।এই আমি কছম কাটিলাম।এখন হইতে আর যদি তোমার গায়ে হাত তুলি তখন যাহা হয় করিও”

Friday, April 5, 2019

বাংলা গল্প: খ্যাতিমানদের মজার ঘটনা-পর্ব ২

বাংলা গল্প

রবীন্দ্রনাথ ও চিনির রস
রবীন্দ্রনাথ রস নিয়ে কী কী লিখছেন, এই নিয়ে আমাদের গবেষনা এখনো শেষ হয়নি। আপাতত আমরা রসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান চিনি নিয়ে তিনি কী লিখেছেন , আপনাকে জানাই।
মরিস সাহেব শান্তিনিকেতনে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষা পড়াতেন। একদিন তিনি তাঁর ছাত্র প্রমথনাথ বিশীকে(বিখ্যাত নাট্যকার) বললেন, ”গুরুদেব সুগার বা চিনি বিষয় একটা গান লিখেছেন। গানটি খুবই মিষ্টি হয়েছে।
প্রমথনাথ বিশী বললেন, ” সুগার নিয়ে গান লিখলে তো মিষ্টি হবেই। গানটা কী রকম একটু গেয়ে শোনান তো !
”I would fly you to the moon and back if you’ll be . . . if you’ll be my baby.
মরিস গাইতে লাগলেন – ” আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী, তুমি থাক সিন্ধুপারে
প্রমথনাথ বিশী হেসে বললেন, ” গানটাতে বেশ ক চামচ চিনি দিয়েছেন গুরুদেব। তাই একটু বেশি মিষ্টি হয়েছে। তবে এই চিনি যে সুগার, সেটা আপনাকে কে বলল ? ”
কে আবার। স্বয়ং গুরুদেব আমাকে বলেছেন, ”মরিস শোন, আমি সুগার নিয়ে একটা গান লিখেছি।
আলেকজান্ডার ডুমার
ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমার সাক্ষাত্কার নিচ্ছিলেন এক জাঁদরেল সাংবাদিক। তাঁর প্রথম প্রশ্ন, ‘আপনার পূর্বপুরুষ শংকর ছিলেন, এটা কি সত্যি?’ ডুমা উত্তরে বললেন, ‘হ্যাঁ।সাংবাদিক আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘আর আপনার পিতামহ ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ?’ ডুমা শান্তস্বরে বললেন, ‘হ্যাঁ।সাংবাদিক এবার বেশ জোর দিয়ে বললেন, ‘এবং আপনার প্রপিতামহ ছিলেনসাংবাদিক শেষ করার আগে ডুমাই উত্তর দিলেন, ‘বেবুনএবং সঙ্গে যোগ করলেন, ‘আর আপনার যেখানে শেষ সেখান থেকেই আমার পূর্বপুরুষের শুরু।
জাঁ ককতো
ফরাসি লেখক জাঁ ককতোকে একবার স্বর্গ-নরক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিনীতভাবে বললেন, ‘মাফ করবেন, এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না; কারণ ওই দুই জায়গাতেই আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে
রসিনি
ফরাসি ভক্তরা সুরকার রসিনির একটি মূর্তি গড়ছিল। একদিন মূর্তিটি দেখানোর জন্য ভক্তরা তাঁকে নিয়ে গেল। মূর্তিটি দেখে রসিনি জানতে চাইলেন, মূর্তিটি বানাতে কত খরচ হবে?
এক শ কোটি ফ্রাঁ।
তার চেয়ে আমাকে পঞ্চাশ কোটি ফ্রাঁ দিলে আমি বাকি জীবন ওখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম।
রুডলফ ক্রিটলিন
পশ্চিম জার্মানির বিখ্যাত রেফারি রুডলফ ক্রিটলিন সব সময় মাঠে নামতেন একটা ফিতা হাতে নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ সব খেলার আগে সেই ফিতা দিয়ে গোলপোস্টের দৈর্ঘ্য, উচ্চতা এবং মাঠের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ মেপে নিতেন খুব সতর্কতার সঙ্গে। অনেকের কাছে ব্যাপারটি অতি পণ্ডিতি মনে হতো। কিন্তু আসল খবর কেউ জানত না। ক্রিটলিন পেশায় ছিলেন একজন দর্জি।
স্যামুয়েল জনসন
বিখ্যাত কবি ও সমালোচক স্যামুয়েল জনসন খবর পেলেন তাঁর সময়ের একজন নামকরা রাজনৈতিক নারী কলামিস্ট লেখালেখিতে মনোযোগ কিছু কম দিয়ে ইদানীং রূপচর্চায় মেতেছেন। শুনে জনসন মন্তব্য করলেন, ‘অন্যের চরিত্রে কালিমা লেপনের চেয়ে নিজের গালে কালিমা লেপন উত্তম
সারা বার্নার্ড
ফ্রান্সের সারা বার্নার্ড এক নাটকে ভিখারিণীর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। ক্ষুধার্ত, অবসন্ন, অসহায় ভাব চোখমুখে এবং সমস্ত ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘হা ঈশ্বর! আর তো এক পাও চলতে পারছি না, তিন দিন পেটে কিছু পড়েনি। আঃ মরে গেলাম
হঠাত্ দু-একজন দর্শকের কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টি লক্ষ করে তাঁর খেয়াল হলো, আরে! হাতের সোনার বালা দুটো খুলে রাখতে ভুল হয়ে গেছে। স্পটলাইট পড়ে সেগুলো ঝিলিক মারছে।
সঙ্গে সঙ্গে বালা দুটো খুলে মনগড়া সংলাপ বললেন, ‘এই গিল্টি করা দুই পয়সার গয়নায় আমার একটা রুটিও জুটবে না।বলেই উইংসের এক নিরাপদ কোণে ছুড়ে দিলেন বালা জোড়া।
মার্ক টুয়েন
মার্ক টুয়েনের লাইব্রেরিখানা নাকি দেখবার মত ছিল। মেঝে থেকে ছাত পর্যন্ত বই, বই, শুধু বই। এমনকি কার্পেটের উপরও গাদা গাদা বই স্তূপীকৃত হয়ে পড়ে থাকতপা ফেলা ভার। এক বন্ধু তাই মার্ক টুয়েনকে বললেন, ‘বইগুলো নষ্ট হচ্ছে; গোটাকয়েক শেল্ফ যোগাড় করছ না কেন?’
মার্ক টুয়েন খানিকক্ষণ মাথা নিচু করে ঘাড় চুলকে বললেন, ‘ভাই, বলেছ ঠিকইকিন্তু লাইব্রেরিটা যে কায়দায় গড়ে তুলেছি, শেলফ তো আর সে কায়দায় যোগাড় করতে পারি নে। শেলফ তো আর বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার চাওয়া যায় না।শুধু মার্ক টুয়েনই না, দুনিয়ার অধিকাংশ লোকই লাইব্রেরি গড়ে তোলে কিছু বই কিনে, আর কিছু বই বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার করে ফেরত্ না দিয়ে।

বাংলা গল্প: খ্যাতিমানের মজার ঘটনা–পর্ব ১

বাংলা গল্প

উইনস্টন চার্চিল

মেয়ে সারা যে ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন, তাকে দু চোখে দেখতে পারতেন না বাবা উইনস্টন চার্চিল। একদিন দুজনে হাঁটতে বেরিয়েছেন। এ সময় মেয়ে-জামাই প্রশ্ন করল, ‘যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রশংসাযোগ্য কাজ করেছেন, এমন কেউ আছেন কি?
চার্চিল প্রায় গর্জন করে করে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, একজন আছেন। মুসোলিনি। তিনিই একমাত্র লোক যে কিনা নিজের মেয়ে-জামাইকে গুলি করে মারার সাহস দেখিয়েছিলেন।
চার্চিল একবার তাঁর পাশের কক্ষে অবস্থানরত এক মন্ত্রীকে উচ্চকণ্ঠে কথা বলতে শুনে বিরক্ত হয়ে তাঁর সেক্রেটারিকে পাঠালেন আস্তে কথা বলার জন্য। সেক্রেটারি ফিরে এসে বলল, ‘স্যার, উনি স্কটল্যান্ডে কথা বলছেন।চার্চিল বললেন, ‘আমি জানি। তাঁকে বলো টেলিফোন ব্যবহার করতে।
চার্চিলের আশিতম জন্মদিনে এক আলোকচিত্রী ছবি তুলছিলেন। ছবি তুলতে তুলতে একসময় ভদ্রতা করে বলেন, ‘আপনার শততম জন্মদিনেও আমি ছবি তুলতে চাই।
মৃদু হেসে চার্চিল বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুলবে। তোমার স্বাস্থ্য তো বেশ ভালো আছে।
গ্রুন্টার গ্রাস

বিখ্যাত ব্যবসায়ী গ্রান্ট ছিলেন খুবই চালাক। প্রিন্স অ্যালবার্টের গুরুতর অসুস্থতার খবর শুনে তিনি কী বুঝলেন, তড়িঘড়ি করে বাজার থেকে সব কালো কাপড় কিনে ফেললেন। বলাই বাহুল্য, তিন দিন পরই প্রিন্সের মৃত্যু হয়। দেশজুড়ে শোকের মাতম বইতে থাকে আর তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়। ফলে বাজারে কালো কাপড় বিক্রির ধুম পড়ে যায়। সেবার গ্রান্ট প্রায় পঁচিশ লাখ পাউন্ড ব্যবসা করেন।
গিয়ম বুদে
দূঃখিত!ছবি পাওয়া যায় নি
ফরাসি আত্মভোলা পণ্ডিত গিয়ম বুদে লাইব্রেরিতে পড়ছিলেন। এ সময় তাঁর চাকর এসে জানাল, বাসায় আগুন লেগেছে।
বই থেকে চোখ না তুলেই বুদে জানালেন, ‘তুমি তো জানো সাংসারিক ব্যাপারগুলো আমার স্ত্রীই দেখে, তাঁকে বলো।
টমাস আলভা এডিসন

টমাস আলভা অ্যাডিসনের গ্রামোফোন আবিষ্কার উপলক্ষে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এক তরুণী তাঁর বক্তৃতায় অ্যাডিসনকে অযথাই আক্রমন করে বসল, ‘কী এক ঘোড়ার ডিমের যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেই থাকে। আর তাই নিয়ে এত মাতামাতি! ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না
তরুণী বলেই যাচ্ছে। থামার কোনো লক্ষণ নেই।
অ্যাডিসন চুপ করে শুনে গেলেন। বক্তৃতা দিতে উঠে তিনি বললেন, ‘ম্যাডাম, আপনি ভুল করছেন। আসলে সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করার যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন ঈশ্বর। আমি যেটা আবিষ্কার করেছি সেটি ইচ্ছেমতো থামানো যায়।
নিউটন

নিউটন তার প্রেমিকার হাতে বিয়ের আংটি পরাতে গিয়েছিলেন। প্রেমিকার আঙুল নিজের হাতে নিয়ে পকেট থেকে আংটি পরাতে যাবেন। এমন সময় তার একটা থিওরির কথা মনে পড়ে গেল। তখনই তিনি হারিয়ে গেলেন চিন্তার গভীর সাগরে। এবং সে সময়ই মাথায় চেপে বসলো চুরুটের নেশা। হাতের মাঝে বন্দী প্রেমিকার আঙুলকে তিনি ভাবলেন চুরুট। পকেট থেকে আংটির পরিবর্তে ম্যাচলাইটার বের করে প্রেমিকার আঙুলে আগুন ধরিয়ে দিলেন। প্রেমিকা আর্তচিকার দিয়ে কোনোক্রমে নিজের আঙুল উদ্ধার করে পালিয়ে বাচলেন।
রুডইয়ার্ড কিপলিং

ইংরেজ কবি ও ছোটগল্পকার রুডইয়ার্ড কিপলিং যে দৈনিক পত্রিকাটি রাখতেন সে পত্রিকায় একদিন ভুলবশত তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছাপা হয়ে যায়। সংবাদটি দেখে তিনি ভীষণ রেগে যান। সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদককে লিখলেন, ‘এইমাত্র আপনার পত্রিকা পড়ে জানতে পারলাম যে আমি মারা গেছি। আপনার গ্রাহক তালিকা থেকে আমার নামটি দয়া করে বাদ দেবেন।

Tuesday, April 2, 2019

বাংলা হাসির গল্প-অনুস্বার বিসর্গ

বাংলা হাসির গল্প
একজনের দুই জামাই।বড় জামাই সংস্কৃত পড়িয়া মস্তবড় পন্ডিত।ছোট জামাই মোটেই লেখাপড়া জানে না।তাই বড় জামাই যখন শ্বশুর বাড়ী আসে তখন সে আসে না।
সেবার পূজার সময় শ্বশুর ভবিলেন,দুই জামাইকে একত্র করিয়া ভালমত খাওয়াই।তা ছাড়া তাদের দুইজনের সঙ্গে ত আলাপ পরিচয় থাকা উচিত।কিন্তু বড় জামাইর কথা শুনিলে ছোট জামাই আসিবে না।তাই বড় জামাইর আসার কথা গোপন করিয়া ছোট জামাইকে নিমন্ত্রণ দিল।
ছোট জামাই শ্বশুর বাড়ী আসিয়া শুনিল বড় জামাইও আসিতেছে।হায়!হায়!কি করিয়া সে বড় জামাইর সংগে কথাবর্তা বলিবে!সে শুনিয়াছে বড় জামাই সংস্কৃত ছাড়া কথাই বলে না।বড় জামাই তখন বাড়ির সামনে আসিয়া পড়িয়াছে;শালা শালীদের মুখে এই খবর শুনিয়া ছো জামাই ভয়ে খাটের তলায় যাইয়া লুকাইয়া রহিল ।
বড় জামাই আসিয়া শালা শালীর সাথে সংস্কৃতে কথা বলিতে লাগিল।শালা-শালীরাও দুই এক কথায় সংস্কৃতেই তাহার উত্তর দিতেছিল।সংস্কৃত ভাষায় প্রায় প্রতি শব্দেই একটা অনুস্বর বা  বিসর্গ থাকে।বড় জামাইর মুখে সংস্কৃত শুনিয়া সে ভাবিল,অনুস্বার  বিসর্গ দিলেই যদি সংস্কৃত হয় তবে খাটের নীচে বসিয়া আছে কেন?
সে খাটের তলা হইতে বলিয়া উঠিল-
অনুস্বরং দিলেং যদিং সংস্কৃতং হং
তবেং কেনং ছোটং জামাইং খাটেরং তলেং রং?”
শুনিয়া শাল-শালী তাহাকে খাটের তলা হইতে উঠাইয়া আনিল।ছোট জামাইর সংস্কৃত শুনিয়া বড় জামাই মৃদু হাসিল ।