Showing posts with label টিপস্. Show all posts
Showing posts with label টিপস্. Show all posts

Friday, May 3, 2019

ফণী- অস্বাভাবিক সাইক্লোন


বিষুবরেখার অতি নিকটে তৈরি হওয়া এ সাইক্লোন ভূমিতে আছড়ে পড়ার জন্য যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসছে, তার ভিত্তিতেও ফণী অন্যরকম। 
cyclone nameing
ফণীর সাম্প্রতিক গতিপথ
ওড়িশা উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী। শুক্রবার তা পুরীতে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। মনে করা হচ্ছে ২০০ কিলোমিটার বেগে ধাবমান এই ঝড় ওড়িশা ও সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। শেষবার এ ধরনের সাইক্লোন বঙ্গোপসাগরে দেখা গিয়েছিল ২০০৮ সালে। সেবার বহু মানুষ মারা গিয়েছিলেন মায়ানমারে। কিন্তু তার একটা বড় কারণ ছিল আধুনিক বিপদসংকেত ব্যবস্থার অপ্রতুলতা। সেবার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত পরিকাঠামোও ছিল না।
অন্যদিকে ফণী সপ্তাহখানেক আগে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণপূর্বে তৈরি হওয়ার সময়কাল থেকেই তার উপর নজরদারি চলছে। কয়েকঘণ্টা অন্তর মস্যজীবী ও উপকূলবাসী মানুষদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যাপকহারে আপকালীন ব্যবস্থাগ্রহণ চলছে। গত কয়েকবছরে ভারত সাইক্লোনজনিত বিপর্যয় মোকাবিলা করেছে খুব ভালভাবে। এ প্রসঙ্গে বলতেই হয় ২০১৩ সালের ঘুর্ণিঝড় ফাইলিনের কথা। ফাইলিন আসন্ন ফণীর থেকেও বেশি শক্তিশালী ছিল।
কীভাবে হয় ঝড়ের নামকরণ? ‘ফণীনামটাই বা কার দেওয়া?

পরবর্তী ঝড়ের নাম কী হবে?

ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে উদ্ভূত ট্রপিক্যাল সাইক্লোনের নামের তালিকা আঞ্চলিক কমিটির কাছে পাঠায় ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, এবং থাইল্যান্ড। 


cyclone nameing
ওড়িশায় পুরী থেকে ১০ কিমি উত্তরে চন্দ্রভাগায় শুক্রবার দুপুরে মাটি ছোঁবে ঘূর্ণিঝড় ফণী। সপ্তাহান্তে ঘন্টায় ২০০ কিমি পর্যন্ত বেগে হাওয়া আঘাত হানতে পারে অন্ধ্র প্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে। অত্যন্ত তীব্রএই ঘূর্ণিঝড় আপাতত ওড়িশায় ল্যান্ডকরেছে এবং দ্রুতবেগে পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধেয়ে আসছে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর।
অবশ্য সাইক্লোন কোনও নতুন ব্যাপার নয় ওড়িশায়। এর আগে সবচেয়ে সাম্প্রতিক সাইক্লোন ছিল তিতলি’, যা গত বছর ঘণ্টায় ১৮০ কিমি বেগে আছড়ে পড়ে এই রাজ্যে, যার ফলে প্রায় তিন লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায় রাজ্য প্রশাসন। তা সত্ত্বেও ওড়িশায় তিতলিকেড়ে নেয় অন্তত দুটি প্রাণ।
তিতলিনামটা শুনলেই চোখের সামনে যে ফুটফুটে ছবিটা ভেসে ওঠে, বলাই বাহুল্য তার সঙ্গে প্রানঘাতী সাইক্লোনের দূরতম মিলও নেই। সেক্ষেত্রে এই নামকরণ সম্ভবত ব্যঙ্গাত্মক। কিন্তু ফণী’, অর্থা সাপের সঙ্গে প্রাণনাশের যথেষ্ট যোগ আছে। এক্ষেত্রে কোনও ব্যঙ্গ নেই।
প্রশ্ন হলো, কে বা কারা রাখে এসব নাম? তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায়, এই প্রথা চালু হয় অ্যাটল্যান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে। যেসব ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৯ মাইল ছাড়িয়ে যেত, তাদের বিশেষ সম্মান জানাতে নামকরণ করা হতো। ঘণ্টায় হাওয়ার গতিবেগ ৭৪ মাইল ছাড়িয়ে গেলে হারিকেন, সাইক্লোন বা টাইফুন হিসেবে ভাগ করা হতো। বর্তমান যুগে এই তিনটির একটি হলে তবেই কোনও ঝড়কে নামকরণের সম্মান প্রদান করা হয়।
আজকের দিনে ট্রপিক্যাল সাইক্লোনের আনুষ্ঠানিক নামকরণ করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশনের আওতায় এগারোটি সতর্কতা কেন্দ্রের যে কোনও একটি। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সব নাম জমা পড়ে এই সংস্থার আঞ্চলিক ট্রপিক্যাল সাইক্লোন কমিটির কাছে। একবার নাম চূড়ান্ত হয়ে গেলে তা বদল করা যায় না, যদি না ঝড়ের ফলে খুব বেশি মাত্রায় মৃত্যু অথবা সম্পত্তি বিনষ্ট হয়।তাহলে ফণীনামটা কে রেখেছে? উত্তর: বাংলাদেশ। এই নামকরণের প্রস্তাব গ্রহণ করে দিল্লির রিজিওনাল স্পেশালাইজড মিটিওরোলজিকাল কেন্দ্র।
cyclone nameing
নামের তালিকা
ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন একটি প্রক্রিয়া চালু করেছে যার দ্বারা বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে ঝড়ের নামের তালিকা গ্রহণ করে তারা। প্রয়োজন মতো এই সমস্ত তালিকা থেকে বেছে নেওয়া হয় নাম। ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে উদ্ভূত ট্রপিক্যাল সাইক্লোনের নামের তালিকা আঞ্চলিক কমিটির কাছে পাঠায় ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, এবং থাইল্যান্ড।
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এই আটটি দেশের তরফে আটটি করে ভবিষ্যতের সাইক্লোনের নাম জমা করা হয়েছে। সেই ৬৪ টি নামের তালিকা থেকেই বেছে নেওয়া হয়েছে ফণী’, যেমন বেছে নেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের দেওয়া নাম তিতলি’, বা মালদ্বীপের দেওয়া আইলা। বর্তমানে এই তালিকার শেষ স্তম্ভ থেকে নাম বাছা হচ্ছে, ফলে এই অঞ্চলে পরবর্তী সাইক্লোনের নাম হতে চলেছে বায়ু

ভারতের পূর্বভাগে সাইক্লোন নতুন কিছু নয়। গড় হিসেবে দেখতে গেলে পাঁচ থেকে ছটি বড়সড় ঘূর্ণিঝড় প্রতি বছর বঙ্গোপসাগরে উদয় হয়। এপ্রিল ও মে মাসে, বর্ষা শুরুর ঠিক আগে এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে, বর্ষা শেষের ঠিক পরের সময়টাই সাইক্লোনের সময়।
তবু ফণী সামান্য হলেও অন্যদের থেকে আলাদা। তার একটা বড় কারণ এর শক্তি এবং এর গতিপথ। এপ্রিল-মে মাসে যে সব সাইক্লোন পরিলক্ষিত হয়, সেগুলি অক্টোবর-ডিসেম্বরের থেকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। বঙ্গোপসাগর এলাকায় ১৮৯১ সাল থেকে হিসেব করলে এপ্রিল মাসে যে সব সাইক্লোন দেখা গেছে, তার মধ্যে মাত্র ১৪টি অতি শক্তিশালী। এর মধ্যে মাত্র একটি ভারতীয় ভূমি স্পর্শ করেছিল। সেটা ছিল ১৯৫৬ সালের ঘটনা। অন্য সমস্ত সাইক্লোনই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ, মায়ানমার অথবা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্য দেশের দিকে। ১৯৯০ সাল থেকে হিসেব করলে এপ্রিল মাসে এরকম মাত্র চারটি সাইক্লোন দেখা গেছে।
ফণী শুধু শক্তিশালী নয়, অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি পরিমাপ করা হয় তার কেন্দ্রে  বাতাসের গতিবেগ দিয়ে। শক্তির দিক থেকে একেবারে নিচের দিকে যে সাইক্লোন তার ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ হয় ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটার, এর ওপরেরটায় বাতাসের গতিবেগ থাকে ৬১-৮৮ কিলোমিটার, শক্তিশালী সাইক্লোনের ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ থাকে ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার, অতি শক্তিশালী সাইক্লোনের ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ থাকে ১১৮-১৬৬ কিলোমিটার। সুপার সাইক্লোনের ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ হয় ২২২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়।
বিষুবরেখার অতি নিকটে তৈরি হওয়া এ সাইক্লোন ভূমিতে আছড়ে পড়ার জন্য যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসছে, তার ভিত্তিতেও ফণী অন্যরকম।
ফণী কীভাবে শক্তিবৃদ্ধি করে
বঙ্গোপসাগরে স্থানীয় ভাবে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় সাধারণ ভাবে তৈরি হয় ১০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে, চেন্নাই তিরুবনন্তপুরম রেখা ধরে। অন্যদিকে ফণী তৈরি হয়েছে বিষুবরেখার খুব কাছে ২ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে। দীর্ঘ সমুদ্রপথ ভেদ করায় শক্তি বাড়িয়েছে ফণী, যা এরকম মরশুমে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সাইক্লোনের থেকে ধরন হিসেবেই আলাদা।
প্রাথমিকভাবে এর মুখ ছিল উত্তরপশ্চিমে, তামিলনাড়ুর উপকূলে। কিন্তু মধ্যপথে সে গতি পরিবর্তন করে, এবং মুখ ঘোরায় ওড়িশা উপকূলের দিকে। এর ফলে সমুদ্রের ওপরে আরও সময় পেয়েছে এই সাইক্লোন।
আইআইটি ভুবনেশ্বরের আবহাওয়াবিদ ইউসি মহান্তি বলেন, “যদি ফণী প্রাথমিক গতিপথে থাকতে এবং তামিলনাড়ু উপকূলে আছড়ে পড়ত, তাহলে এ সাইক্লোন এখনকার মত এত দুরন্ত হত না। সমুদ্রে দীর্ঘতর সময় কাটানোর ফলে এর শক্তি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

Thursday, May 2, 2019

ঘূর্ণিঝড়ে করনীয় / ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর করনীয় কাজ


ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর যা করবেন
ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর যা করবেন,
কক্সবাজার
ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। মংলা,পায়রা,চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকার দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’শুক্রবার সকাল থেকে বাংলাদেশে এ ঝড় আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর হতে ‘৭ নং’ বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। এতে আতঙ্কিত উপকূলবাসী। তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে উপকূলীয় এলাকায় ২৫৬ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার হতে প্রায় ৯০০ কিঃমিঃ দূরে রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর যা করবেন,ঘূর্নিঝড় ফণী

ঘূর্ণিঝড় ফণী


ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগে
, ঘটনার সময় ও পরে জনগণের করণীয় বিষয়গুলো জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ও ক্ষয়ক্ষতির হ্রাসে তাপর্যপূর্ণ অবদান রাখে। তাই উপকূলবাসীকে সচেতন করতে পরিবর্তন ডটকম তুলে ধরছে এসময় করনীয় দিকগুলো।

পূর্বাভাস পাওয়ার পর দুর্যোগকালে করণীয়:


* ঘরগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করে মজবুত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যেমন- মাটিতে খুঁটি পুঁতে দড়ি দিয়ে ঘরের বিভিন্ন অংশ বাঁধতে পারেন।
* দুর্যোগকালীন স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন।
* বিপদ সংকেত পাওয়ামাত্র বাড়ির মেয়ে, শিশু ও বয়স্কদের আগে কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে প্রস্তুতি রাখুন ও সময় নষ্ট না করে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যান।
* বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় আগুন নিভিয়ে যাবেন।
* অতি প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্যসামগ্রী যেমন- ডাল, চাল, দিয়াশলাই, শুকনো কাঠ, পানি, ফিটকিরি, চিনি, নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধ, বইপত্র, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওরাল স্যালাইন ইত্যাদি পানি নিরোধক পলিথিন ব্যাগে ভরে গর্তে রেখে ঢাকনা দিয়ে পুঁতে রাখুন।
* গরু-ছাগল কাছের উঁচু বাঁধে অথবা কিল্লা বা উঁচুস্থানে রাখুন। কোনো অবস্থাতেই গোয়াল ঘরে বেঁধে রাখবেন না। কোনো উঁচু জায়গা না থাকলে ছেড়ে দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতে দিন।
* শক্ত গাছের সঙ্গে কয়েক গোছা লম্বা মোটা শক্ত রশি বেঁধে রাখুন। রশি ধরে অথবা রশির সঙ্গে নিজেকে বেঁধে রাখুন যাতে প্রবল ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আপনাকে উড়িয়ে নিতে না পারে।
* আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্ধারিত বাড়ির আশেপাশে গাছের ডালপালা আসন্ন ঝড়ের আগেই কেটে রাখুন, যাতে ঝড়ে গাছগুলো ভেঙে বা উপড়ে না যায়।
* রেডিওতে কিছু সময় পর পর ঘূর্ণিঝড়ের খবর শুনতে থাকুন।
* দলিলপত্র ও টাকা-পয়সা পলিথিনে মুড়ে নিজের শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখুন অথবা সুনির্দিষ্ট স্থানে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখুন।
* টিউবওয়েলের মাথা খুলে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং টিউবওয়েলের খোলা মুখ পলিথিন দিয়ে ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে যাতে করে দূষিত বা লবণাক্ত পানি টিউবওয়েলের ভেতর প্রবেশ না করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর যা করবেন,বন্যার পর করনীয় কাজ

দুর্যোগ পরবর্তী করণীয়:


* রাস্তা-ঘাটের ওপর উপড়েপড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলুন, যাতে করে সহজে সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়।
* আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন এবং নিজের ভিটায় বা গ্রামে অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিন।
* অতি দ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে খাল, নদী, পুকুর ও সমুদ্রে ভাসা বা বনাঞ্চলে বা কাদার মধ্যে আটকেপড়া মানুষ বা গবাদিপশুকে উদ্ধার করুন।
* ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ যাতে করে শুধুমাত্র এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজ উদ্যোগে অন্যকে সাহায্য করেন, সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।
* ত্রাণের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সচেষ্ট হন। ত্রাণের পরিবর্তে কাজ করুন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করুন। ত্রাণ যেন মানুষকে কর্মবিমুখ না করে কাজে উসাহী করে, সেভাবে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে।
* দ্বীপের বা চরের নিকটবর্তী কাদার মধ্যে আটকেপড়া মানুষ বা গবাদিপশু উদ্ধারের জন্য দলবদ্ধ হয়ে দড়ি ও নৌকার সাহায্যে উদ্ধার কাজ আরম্ভ করুন। কাদায় আটকেপড়া লোকের কাছে দড়ি বা বাঁশ পৌঁছে দিয়ে তাকে উদ্ধার কাজে সাহায্য করা যায়।
* ঝড় একটু কমলেই ঘর থেকে বের হবেন না। পরে আরও প্রবল বেগে অন্যদিক থেকে ঝড় আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
* পুকুর বা নদীর পানি ফুটিয়ে পান করুন। বৃষ্টির পানি ধরে রাখুন।
* নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ত্রাণ বণ্টন (আলাদা লাইনে) করুন।
* দ্রুত উপাদনশীল ধান ও শাকসব্জির জন্য জমি প্রস্তুত করুন, বীজ সংগ্রহ করুন এবং কৃষি কাজ শুরু করুন যাতে করে দ্রুত ফসল ঘরে আসে।

ঘূর্ণিঝড়: বিপদ সংকেতসমূহ / cyclone signals


কোন বিপদ সংকেতে কী বোঝায়

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীউপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় দেশের তিনটি সমুদ্রবন্দরে বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।

মোংলা, পায়রায় ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রামে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে আগের মতই ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ শাসনামলে তৈরি এই সংকেত ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা থেকে আলাদা। ঝড়ের গতি ও বিপদের সম্ভাব্য মাত্রা বিবেচনায় ১ থেকে ১১ নম্বর সংকেত দিয়ে এখানে সতর্কতার মাত্রা বোঝানো হয়।  
সনাতনী এ সংকেত ব্যবস্থা মূলত তৈরি করা হয়েছিল সমুদ্রগামী জাহাজ ও বন্দরের নিরাপত্তার জন্য। জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তার বিষয়টি সেখানে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি তখন। 
সমুদ্রবন্দরে ঝড়ের সতর্ক বার্তা হিসেবে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত, ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের পর ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত; , ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হয়। সর্বশেষ ১১ নম্বর দিয়ে বোঝানো হয়- যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
পাশাপশি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য রয়েছে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর নৌ বিপদ সংকেত ও ৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত।
সমুদ্রবন্দরের জন্য সংকেতগুলোর মধ্যে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের মাত্রা একই। আবার ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতেরও মাত্রা এক। ঝড় কোন দিক দিয়ে যাবে তার ভিত্তিতে নম্বর আলাদা করা হয়, যদিও বিপদ সব ক্ষেত্রেই সমান।
এর ফলে সাধারণের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ মনে করে, সংকেত যত বেশি, বিপদ তত বড়। ফলে দ্রুততম সময়ে বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

সমুদ্রবন্দরের জন্য ১১টি সংকেত:

১নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
এর অর্থ হলো জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুযোগপূর্ণ আবহাওয়া সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিমি, যা সামদ্রিক ঝড়ে পরিণত হতে পারে।
২নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিমি। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না। তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথিমধ্যে বিপদে পড়তে পারে।
৩নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙ্গর করা জাহাজগুলো দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ৪০-৫০ কিমি হতে পারে।
৪নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কিমি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার মত তেমন বিপদজনক অবস্থা এখনও আসেনি।
৫নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারী তীব্রতার ঝঞ্জাবহুল এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে নিপতি। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিমি। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিক রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৬নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারী তীব্রতার ঝঞ্জাবহুল এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে নিপতি। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিমি। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিক রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৭নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারী তীব্রতার ঝঞ্জাবহুল এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে নিপতি। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিমি। ঝড়টি বন্দরকে উপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৮নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ো বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিমি বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
৯নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ো বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিমি বা তার ঊর্ধ্বে হতে
পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ো বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিমি বা তার ঊর্ধ্বে হতে
পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরের উপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে।
১১নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত:
আবহাওয়া বিপদ সংকেত প্রদানকারী কেন্দ্রের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তা আবহাওয়া অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

নদীবন্দরের জন্য ৪টি সংকেত

১নং নৌ সতর্কতা সংকেত:
বন্দর এলাকা ক্ষণস্থায়ী ঝড়ো আবহাওয়ার কবলে নিপতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি গতিবেগের কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেও এই সংকেত
দেখানো হয়। এই সংকেত আবহাওয়ার চলতি অবস্থার উপর সতর্ক নজর রাখারও
তাগিদ দেয়।
২নং নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর এলাকা নিম্নচাপের সমতূল্য তীব্রতার একটি ঝড়, যার গতিবেগ ঘণ্টায় অনুর্ধ্ব ৬১ কিমি বা একটি কালবৈশাখী ঝড়, যার বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিমি বা তদুর্ধ্ব। নৌযান এদের যে কোনটির কবলে নিপতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ বিশিষ্ট নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
৩নং নৌ বিপদ সংকেত
বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২-৮৮ কিমি পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক ঝড় সহসাই বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সকল নৌযানকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
৪নং নৌ- বিপদ সংকেত
সংকেত বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত এবং সহসাই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিমি বা তদুর্ধ। সকল প্রকার নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।
এই সংকেত ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য গত আড়াই দশকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি সংকেত ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে সুপারিশ জমা দিয়েছিলতাও পরে আর বাস্তবায়ন হয়নি।  

Tuesday, April 23, 2019

App Review: ছবি ও ভিডিওর সৌন্দর্য বাড়াবে যে অ্যাপ Retrica

Bangla Golpo

ছবি তোলার সময়ই ফিল্টার থেকে ছবিটি কেমন হবে তা দেখে নেওয়ার সুযোগ আছে। তাহলে পরে আর ছবি এডিটিংয়ে সময় দিতে হবে না।কেননা স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তোলার পর সেটিকে আরও সুন্দর করতে অনেকেই ফিল্টার ব্যবহার করেন। এরপর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন।
তোলার সময়ই ছবি ফিল্টার করার তেমনি একটি অ্যাপ হলো রেট্রিকা (retrica)
অ্যাপটির সাহায্যে ছবি তোলার সময়ই বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার দিয়ে দেখে নেওয়া যাবে ছবিটি বা ভিডিওটি কেমন হবে।
এক নজরে অ্যাপটির ফিচারগুলো
অ্যাপটিতে দারুণ ক্যামেরা ফিল্টার রয়েছে। ক্লিক করার সময়ই দেখে নেওয়া যাবে ছবি বা ভিডিওটি কেমন দেখাবে। ১০০টির বেশি ফিল্টার মিলবে অ্যাপটিতে।
ছবিতে কালার পপের প্রয়োজন হলে তা অ্যাপটির সাহায্য করে নেওয়া যাবে। পছন্দমত রঙের ফিল্টার দেওয়া যাবে ছবিতে।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিআইএফ ভিডিও বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এটির মাধ্যমে জিআইএফ ভিডিও তৈরি করা সম্ভব।
অনেকগুলো ছবি একত্রে যুক্ত করে কোলাজ ছবি সহজেই তৈরি করা যাবে এটির মাধ্যমে।
ছবিকে মজাদার করতে অনেক ফান স্টিকার,ডুডল রয়েছে এতে। যেগুলো ব্যবহার করে সেলফিকে আরও আকষর্ণীয় করা যাবে।
অ্যাপটির মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা করার পর চাইলে তা সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা যাবে।
অ্যাপটিতে একটি কমিনিউটি অপশন রয়েছে। চাইলে আপনার ছবিটি অ্যাপে আপলোড করতে পারেন। অন্য কোন বন্ধুকে ফলোও করতে পারবেন।
ঠিকানা থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। ৪.৩ রেটিং প্রাপ্ত অ্যাপটি এক কোটির বেশি ডাউনলোড হয়েছে গুগল প্লে থেকে।

সূত্র: Techshohor.com

Thursday, April 18, 2019

নিজের বানানো শরবতে মিটবে গরমের তৃষ্ণা By Bangla Golpo

Bangla Golpo

সুস্থ্য থাকুন

চলছে বৈশাখ মাস সাথে প্রচণ্ড গরম। এই মাসেই দেখা যায় কাঁচা আমের ব্যাপক সমারোহ। আর প্রচণ্ড এই গরমে মুহুর্তের মধ্যে প্রশান্তি এনে দিতে পারে এক গ্লাস কাঁচা আমের শরবত। অথবা আনারস পেঁপের গলানো সোনালি আভায় দু টুকরো বরফ। আর কী চাই!
যে কোনো ফল দিয়েই আপনি ঘরে শরবত বানাতে পারবেন। এর জন্যে শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিমাণে লবণ-চিনি-ফলের ব্যবহার। চলুন দেখে নেই দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাণ জুড়ানো কয়েকটা শরবতের রেসিপি।
গ্রিন ভ্যালি
  • নিয়ে নিন ১টা কাঁচা আম,১ কাপ পানি,৩ চা চামচ চিনি,১ চা চামচ জিরাগুঁড়ো,গোলমরিচ গুঁড়ো ও লবণ স্বাদমতো, পুদিনাপাতা সামান্য,বরফের টুকরো।
  • এবার আমের টুকরো পানিতে ভাল করে সিদ্ধ করে নিন। ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে নিয়ে এক কাপ পানি মেশান। সব উপকরণ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। পুদিনা পাতা,বরফের টুকরো দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন
পাইনঅ্যাপেল ব্লিস
  • আনারস ১টা,সোডা ৩০০ মিলি,চিনি পরিমাণমত,চাটমসলা সামান্য,বরফ কুচি।
  • ব্লেন্ডারে আনারস ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে হবে। এবার চিনি,চাটমসলা,সোডা ও বরফকুচি মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
গোল্ডেন ঈগল
  • এই শরবতটির জন্য নিন ১ কাপ টুকরো করা পাকা পেঁপে, ১/২ কাপ টুকরো করা পাকা আম,২ চা চামচ চিনি,১/২ চা চামচ চাটমসলা,বরফের টুকরো।
  • এবার সব উপকরণগুলো একসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।
  • এরপর চাটমসলা ছড়িয়ে বরফকুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

Sunday, April 14, 2019

লং এর উপকারীতা

Bangla Golpo
সুস্থ্য থাকুন

প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদান মানুষের নানা কাজে সাহাজ্য করে।এরকম একটি উপাদান লং।লং সাধারনত রান্নায় মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।জেনে নিন লং এর উপকারীতাঃ

দাঁতের যন্ত্রণায় উপকারী।
পেট ব্যথা কমায়।
পায়েরিয়ার ক্ষেত্রে উপকারী।
বমিভাব কমায়।
অরুচি দূর করে।
গলা খুশ খুশভাব কমায়।
কফ ও কাশি দূর করে
খিদে বাড়ায়,রুচীর পরিবর্তণ আনে।
কৃমি জাতীয় রোগ প্রতিরোধ করে।
এটা পচনরোধক।
এটা শরীরে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
গলার সংক্রমণরোধক হিসেবে কাজ করে।
যৌন রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য খুবই উপকারি।
দাতের ব্যাথায় দারুণ কার্যকর।
ক্রিয়েটিভিটি এবং সেন্টাল ফোকাস বাড়ায়।
লবঙ্গ তেলের রয়েছে ব্যাকটেরিয়া নামক জীবানু ধ্বংসের ক্ষমতা।

Friday, April 5, 2019

বাংলা গল্প: কোমর ব্যথা কেন হয় এবং এর প্রতিকার

বাংলা গল্প

সাধারণত কোমরের নিচের দিকে ব্যথা অনুভূত হয়। আমাদের দেহে ২৯টি মেরুদণ্ডের হাড় আছে, যার মধ্যে কোমরে আছে পাঁচটি। এই পাঁচটি হাড় থেকে আবার ছয় জোড়া নার্ভ শরীরের নিচের অংশে থাকে। সাধারণত এই অংশটিতে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলেই কোমর ব্যথা হয়। আসুন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিই এর কারণ ও প্রতিকার।
কেন হয় ব্যথা :
* ভারী বস্তু তোলার কাজ করলে
* সাইকেল চালালে
* কোমরে চোট পেলে
* পিছিল খেয়ে পড়লে
* অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ বা সামনের দিকে ঝুঁকে অনেকক্ষণ কাজ করলে
* তিন থেকে পাঁচ বছর নিয়মিত শক্ত বিছানায় ঘুমালে
* নিয়মিত গাড়ি চালালে
* সাধারণত কুঁজো হয়ে হাঁটলে বা বসলে
* ওজন উচ্চতা অনুযায়ী বেশি হলে
* গর্ভকালীন।

কী করবেন :
* নিচ থেকে বা মাটি থেকে কিছু তুলতে হলে না ঝুঁকে হাঁটু ভাঁজ করে বসুন ও তারপর তুলুন।
* চেয়ারে বসার সময় কোমর সোজা রেখে বসুন।এ জন্য দু-একটি ছোট কুশন কোমরের নিচের অংশে রেখে বসতে পারেন।এতে কোমর সোজা থাকবে।দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকবেন না।হেঁটে আসুন কিছু সময়ের জন্য বা দাঁড়িয়েও থাকতে পারেন।চেয়ার টেবিল থেকে বেশি দূরে রাখবেন না।সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না।কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিন।এমনভাবে বসুন,যেন হাঁটু ও ঊরু মাটির সমান্তরালে থাকে।
* নরম গদি বা স্প্রিংযুক্ত চেয়ার বাদ দিন।চেয়ারে বসলে পা সামান্য উঁচুতে রাখুন।
* ঘাড়ে ভারী কিছু ওঠাবেন না।ভারী জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখুন।পিঠে ভারী কিছু বহন করতে হলে সামনে ঝুঁকে বহন করুন।
* ৩০ মিনিটের বেশি একনাগাড়ে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না।হাঁটু না ভেঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না।দীর্ঘ সময় হাঁটতে হলে উঁচু হিল পরবেন না।অনেকক্ষণ একনাগাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন।
* গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং হুইলে সোজা হয়ে বসুন।
* ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।
* নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম,ব্যায়াম বা হাঁটুন।
* কাটা,রান্না,মসলা পেষা,ঘর মোছা,কাপড় কাচা,ঝাঁট দেওয়া বা নলকূপ চাপার সময় মেরুদণ্ড স্বাভাবিক অবস্থায় এবং কোমর সোজা রাখুন।
* কোমরের ব্যথায় ভুগলে বিছানা থেকে ওঠার সময় সতর্ক থাকুন।চিত হয়ে শুয়ে প্রথমে হাঁটু ভাঁজ করুন।এবার ধীরে ধীরে একপাশে কাত হোন।পা দুটি বিছানা থেকে ঝুলিয়ে দিন,কাত হওয়ার দিকে কনুই ও অপর হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসুন।
* দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করবেন না। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন বা গাড়িতে বসে থাকলে ঝাঁকুনিতে কোমর ব্যথা আরো বেড়ে যায়। এ জন্য দীর্ঘ যাত্রাপথের বিরতিতে ট্রেন বা গাড়ি থেকে নেমে পায়চারি বা হাঁটাহাঁটি করুন।
* শক্ত বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস করুন।এতে পুরো শরীর যেমন সাপোর্ট পায়,তেমনি নিচের দিকের স্পাইনগুলোতে চাপ কমে যায়।শক্ত বিছানা বলতে কিন্তু খালি কাঠ নয়,আমরা যে তোশক ব্যবহার করি সেটিই,তবে খুব বেশি নরম যেন না হয়।কাত হয়ে অথবা চিত হয়ে শোবেন কিন্তু উপুড় হয়ে শোবেন না।
ব্যায়াম
কোমর ব্যথার জন্য সবচেয়ে ভালো প্রতিষেধক হলো ব্যায়াম। সামনের দিকে ঝুঁকে কোনো ব্যায়াম করবেন না। এতে ব্যথা আরো বেড়ে যাবে। প্রথমে সহজ ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন। প্রতিদিন অল্প অল্প করে ব্যায়াম করুন। এ ক্ষেত্রে নিচের ব্যায়ামগুলো করা যেতে পারে।
এক
উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটি পাশে রেখে দিন। ২-৩ মিনিট বিশ্রাম করুন।
এবার হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে শরীরের ওপরের অংশ আস্তে আস্তে ওপরে তুলুন। এভাবে ২-৩ মিনিট থাকুন। আবার আস্তে আস্তে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন।
দুই
উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতগুলো শরীরের পাশে রেখে দিন। হাতের ওপর ভর না দিয়ে ডান পা সোজা রেখে শ্বাস নিতে নিতে আস্তে আস্তে ওপরের দিকে তুলুন। যতটুকু পারেন ওপরে তুলে ধরে রাখুন। নিঃশ্বাস বন্ধ করে মনে মনে ১০ পর্যন্ত গুনুন। শ্বাস নিতে নিতে আস্তে আস্তে নিচে নামান। একইভাবে বাঁ পা দিয়েও করুন।
এবার দুই পা একসঙ্গে সোজা করে ওপরে তুলে ১০ পর্যন্ত গুনুন। আস্তে আস্তে নামান।
এবার হাতের ওপর ভর না দিয়ে দুই পা ও কোমরের ওপরের অংশ একসঙ্গে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে তুলুন। ১০ সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ধীরে নিচে নামান। এভাবে পাঁচবার করে দিনে তিনবার করুন।
ব্যথা বেশি হলে
একজন অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ কিংবা একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন।
কৃতজ্ঞতা: ডাক্তার সানজিদা আজাদ
সূত্র: কালেরকণ্ঠ